মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
নোটিশ

জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ : সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকার জন্য গাইবান্ধা  জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা , উপজেলা, থানা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান/এলাকায় প্রনিতিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবিসহ সরাসরি অথবা ডাকযোগে সম্পাদক বরাবর আবেদন করুন

প্রকাশক সম্পাদক, সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে , গোডাউন রোড, কাঠপট্টী, গাইবান্ধা। ফোন: : ০১৭১৫-৪৬৪৭৪৪, ০১৭১৩-৫৪৮৮৯৮,

উপকূলের মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বোঝেন না

অনলাইন ডেস্ক / ৪৫ Time View
Update : রবিবার, ২৩ মে, ২০২১, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

উপকূলবাসীর জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালীন সময়ে যে সব সতর্কবার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রচার করেন। সে সসব কোনো বার্তাই বোঝেন না উপকূল ও পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চরাঞ্চলে বসবাস বাসিন্দারাসহ অনেক মানুষ।

ওই সব মানুষকে সংকেত বোঝানোর জন্য উল্লেখযোগ্য বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় একের পর এক দুর্যোগে হারাতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জানমাল ও সম্পদ। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপজেলার চরাঞ্চল এলাকার মানুষ। তবে সংকেত বোঝানোর জন্য যা করা হচ্ছে তার তৎপরতা খুবই কম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রতি বছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্যোগের মাস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সরকারিভাবে উপকূলের সাধারণ মানুষের জন্য দুর্যোগ পূর্ববর্তী ও দুর্যোগ পরবর্তী নানা সতর্কতা থাকলেও তা কাজে আসছে না উপকূলের স্বল্পশিক্ষিত মানুষের জন্য। কেননা দুর্যোগ পূর্ববর্তী বন্দর কেন্দ্রিক যেসব বিপদ সংকেত বা মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হচ্ছে তা স্থানীয় কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না।

উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রমত্তা তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরঙ্গ নদী বেষ্টিত ১০টির অধিক চরে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। বিপদ সংকেতের বিষয়টি তারা বুঝতে পারে না। কোন সংকেত কোন ধরনের ক্ষতিসাধন হওয়ার সম্ভাবনা তা তারা জানেন না। তবে নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতা ও বাতাসের তীব্রতায় বুঝা যায় মনে হয় কোন দুর্যোগ আসছে।

যদিও ঝড়ের আগে গণমাধ্যমগুলোতে এ বিষয়ে প্রচার চালানো হয়।
১০নং মহাবিপদ সংকেতের সময় সচেতনতার অভাব থাকার কারণে মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যায়। অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত এলাকার মানুষের কাছে নিজের জীবনের চেয়ে গৃহপালিত পশুর জীবন অনেক মূল্যবান মনে করেন।

গত কয়েক বছরের উপকূলের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাওয়ার সময় মাইকিং করে জনসাধারণকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বললেও সিংহভাগ মানুষ বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি। চরাঞ্চলে জনসংখ্যা অনুপাতে বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্র কম। গৃহপালিত পশু নিরাপদে রাখার কোনো টিলা না থাকায় দুর্যোগ কালীন সময়ে জনগণ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে অনীহার আরও একটি কারণ।

উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন চরবোরহানের চেয়ারম্যান নজির সরদার যুগান্তরকে জানান, চরে শিক্ষার হার খুবই কম। ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত সম্পর্কে চরাঞ্চলের মানুষের তেমন ধারণা নেই। কোন ধরনের সতর্ক বার্তায় কোন মাত্রার বিপদকে বুঝায় এবং এ সময় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা তারা বুঝতে পারেন না দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। যার কারণে চরের মানুষ বেশি ঝুঁকি থাকেন। এসব এলাকার মানুষ দুর্যোগের সময় সাইক্লোন শেল্টারে আসতে চান না। চরবোরহানে বসবাস করা ১১ হাজারের অধিক মানুষের জন্য মাত্র দুটি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

উপকূলের মানুষ জীবন যাত্রা নিয়ে গবেষণা ও উপকূল নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করেন রফিকুল ইসলাম মন্টু। তিনি যুগান্তরকে জানান, অধিকাংশ মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতের মানে জানে না। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তেমন কোন কাজও নেই। আমাদের যে সংকেতগুলো দেয়া হয় তা বন্দরকেন্দ্রিক। ঘূর্ণিঝড়ের যে সংকেত প্রচার করা হয় তাও শেষ মুহূর্তে। যা কারণে মানুষ হুট করে প্রস্তুতি নিতে পারছে না। আবার সংকেত অনুযায়ী ঝড় না হলে মানুষে মাঝে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

তার মতে, ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত এলাকা কেন্দ্রিক হওয়া উচিত। বন্দরকেন্দ্রিক নয়।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন জানান, ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ইউপি চেয়ারম্যানদের জনগণকে সচেতন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সাইক্লোন শেল্টারের বিষয় তিনি জানান, পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: