রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
নোটিশ

জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ : সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকার জন্য গাইবান্ধা  জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা , উপজেলা, থানা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান/এলাকায় প্রনিতিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবিসহ সরাসরি অথবা ডাকযোগে সম্পাদক বরাবর আবেদন করুন

প্রকাশক সম্পাদক, সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে , গোডাউন রোড, কাঠপট্টী, গাইবান্ধা। ফোন: : ০১৭১৫-৪৬৪৭৪৪, ০১৭১৩-৫৪৮৮৯৮,

বসতবাড়ি ও ফসলি জমি দখল করে ‘ফসল রক্ষার বাঁধ’ নির্মাণ

স্টাফ রিপোর্টার / ৮১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১, ৯:২১ অপরাহ্ন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে “এলজিইডি” ও “জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)”র এক কোটি ৩২ লাখ টাকা অর্থায়নে গোবিন্দগঞ্জের বড়দহ সেতু থেকে সাঘাটার ত্রিমোহনী সেতু পর্যন্ত ৫.৩ কিলোমিটার বাধঁ নির্মানের অনিয়ম ও জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবী এই আসনের এমপির প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির মামলার ভয় দেখিয়ে সরকারি জায়গা ব্যবহার না করে কয়েক কোটি টাকার ফসলী জমির ক্ষতি করে রাতের অন্ধাকারে বাধঁ নির্মান করছে “বড়দহ-ত্রিমোহনী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি”। স্থানীয়দের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যাক্তি মালিকাধীন কৃষকদের জমির উপর দিয়ে বাধ নির্মানের বিষয়ে কিছুই জানেন না স্থানীয় এমপি। এলজিইডি বলছেন তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, এলজিইডি ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এর অর্থায়নে বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে কাটাখালি নদীর তীরে ম্যাপ অনুযায়ী সরকারি খাস জায়গা বা রাস্তার উপর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে । গোবিন্দগঞ্জের বড়দহ সেতু থেকে সাঘাটার ত্রিমোহনী সেতু পর্যন্ত ৫.৩ কিলোমিটার এই বাধ নির্মান ও বাধের পাশে বৃক্ষরোপনসহ ব্যায় ধরা হয়েছে এক কোটি ৩২ লাখ টাকা । এই নির্মানের কাজ প্রায় শেষের দিকে । তবে এই বাধ তাদের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে । যে বাধ ফসল রক্ষার জন্য নির্মান করা হচ্ছে সেই বাধঁ গিলে খেয়েছে ফসলী জমি । স্থানীয়দের জোড়দাবী গাইবান্ধা- ৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই লিটন চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষকের জমিতে বাধ নির্মান করছে বড়দহ-ত্রিমোহনী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি ও সভাপতি সজিব আকন্দ ও সাধারন সম্পাদক মো: নওসা মিয়া মিয়াসহ প্রভাবশালীরা ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুকসোনাইডাঙ্গা গ্রামের মনি বেগম বলেন, “ আমরা গরিব মানুষ আমাদেও ক্ষমতা নেই,তাই আমাদেও জমি জোর দখল করে বাধ নির্মান করা হচ্ছে । বাধাদিতে গেয়ে এমপির ভয় দেখায় । চাদাবাজি মামলার ভয় দেখায় ।”

এই গ্রামের আব্বাস উদ্দিন বলেন, “ আমরা বিচার কার কাছে চাইবো ? সরকারের কি টাকার অভাব যে আমাদেও মতো নি¤œ আয়ের কৃষকদের জমি দখল করবে । বাধ নির্মান কমিটি সন্ত্রাসী কায়দায় প্রভাবখাটিয়ে এই গ্রামের অসহায় মানুষদের জমির উপর বাধ নির্মান করা হয়েছে । প্রতিবাদ করলে চিাদাবাজির মামলা দেয়ার হুমকি । এজন্য আমরা প্রতিবাদ করতে পারিনা ।”

এই ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামের মো: ছায়দার রহমান জানান, আমার প্রায় তিন বিঘা জমির উপর দিয়ে বাধঁ নির্মান করা হয়েছে । এতে ৩০ লক্ষাধিক টাকার ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। “বড়দহ-ত্রিমোহনী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি” আমাদের জামি দখল করে বাধঁ নির্মান করেছে । আমরা অসহায় আমাদের কথা কেউ শোনেনা। প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজির মামলার হুমকি দেয় আমাদের ক্ষতি হলেও দেখার কেউ নেই ?

এই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম বলেন, এই বাধেঁর কারনের আমার ৫ বিঘা জমির ক্ষতি হয়েছে । এই বাধে কোন সুইস গেইট নেই তাহলে পাশের জমির পানি বের হয়ে কিভাবে । এই বাধের ফলে এই গ্রামের অনেক কৃষককের প্রায় ৫০ বিঘা জমির বেশী ক্ষতি হয়েছে ।”
স্থানীয় গোবিন্দগঞ্জ ইউজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল মতিন জানান, আমার প্রায় ১৪ বিঘা জমির উপর দিয়ে সরকারি বাধ করা হয়েছে । আমার জমি থেকেই আবার বাধ নির্মানের জন্য মাটি নেয়া হয়েছে । এখন আমার ফসলে ফলানোর জন্য প্রায় সব জমি শেষ । উপজেলা প্রকৌশলী ও জেলা প্রকৌশলীর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও কোন ফল পাইনি । সরকারি যায়গা দিয়ে যদি বাধ নির্মান করা হতো তাহলে সাধারণ কৃষকের কোন ক্ষতি হতো না । আমরা এর প্রতিকার চাই ।

ভুক্তভুগী কৃষক ময়েন উদ্দিন আকন্দ জানান, “শনিবার (১ আগষ্ট) বিকালে তালুক সোনাইডাঙ্গা গ্রামের যুবক, রংপুর পুলিশ লাইনের কর্মরত পুলিশ সদস্য শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন মিলে আমার রেকর্ডকৃত জমি দখল করে। জমি দখলের দুই দিন পরে শতাধিক ভারাটিয়া সন্ত্রাসীসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় মঙ্গলবার (৩ আগষ্ট ২০২১) সন্ধ্যা ৭.৩০ ঘটিকা থেকে স্কেলেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাটি কাটতে শুরু করে । আমি ও পরিবারে সদস্যরা বাধা দিলে আমাদের হত্যার চেষ্টা করে। বাড়ি ঘিরে রাখে । তারা ভোর পর্যন্ত আমার ধান শুকানো উঠান থেকে স্কেলেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাটি তুলে আমার জমির উপর দিয়ে বাধ নির্মান কাজ শেষ করে। আমার মতো যাদের জমির উপর দিয়ে বাধ গেছে তাদেরকে সমিতির সদস্য না করে, মনগড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে চলতি ২০২১ সালের শুরু থেকে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ভূমির নকশা পরিবর্তন করে সরকারি খাস জমি ব্যবহারের পবিবর্তে তালুক সোনাইডাঙ্গা মৌজার ২৮৩ খতিয়ানের ৬০৭, ৬১২, ১১১৭, ১১২১, ১১২৫ দাগের আমার বসতবাড়ি ও ফসলি জমি থেকে মাটি নিয়ে আমার জমির উপর দিয়েই ৪০ ফুট গোড়ালীসহ ১২ ফুট চওড়া মুখ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ”

এই গ্রামের আতিকুর রহমান বিটল জানান, “আমার বসতবাড়ির মাত্র এক বিঘা জমি । এই জমিতে আমি এক লাখ কাটা খরচ করে মাটি ভরাট করেছি। আমার এই জমি উচু হওয়ায় সরকারি জায়গার উপর দিয়ে বাধ নির্মান না করে আমার বসত বাড়ীর জমির উপর দিয়ে বাধ নির্মান করা হয়েছে । অনেক বার বাধা দিয়েছি কোন লাভ হয়নি । তারা আমাদের মামলার ভয় দেখে আমার জমির উপর দিয়েও বাধ নির্মাণ করেছে। অথচ এই বাধের মাত্র ২০/২৫ ফুট নিকটেই সরকারি জায়গা। এই জায়গা ব্যবহার করলে কৃষকদের ফসলি জমির ক্ষতি হতো না । আমরা এর প্রতিকার চাই ।”

বড়দহ-ত্রিমোহনী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি র সাধারন সম্পাদক মো: নওসা মিয়া বলেন “ এই বাধ নির্মানের কৃষকদের কোন ক্ষতিপুরনের অর্থ নেই। আমরা “বড়দহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি”র মাধ্যমে “এলজিইডি” ও “জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)”র অর্থায়নে কাজ করছি ।”

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা- ৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও তার ভাই লিটন চৌধুরী ।

এমপি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী মুঠো ফোনে জানান, “বাধঁ নির্মানের বিষয়ে কিছু দিন আগে শুনলাম’ আমার ভাই কাজ বাস্তবায়ন সহযোগীতা করছে এটা জানি তবে আমার নাম ব্যবহার করে অবৈধ কাজ করার কোন সুজোগ নেই।”

এই বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল লাতিফ বলেন,“সরকারি জায়গা দিয়েই বাধ হচ্ছে। কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দিয়ে নয়, তাই ক্ষতিপুরনের প্রশ্ন উঠেনা ।”

গাইবান্ধা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আহসান হাবিব জানান, “কৃষকের জায়গা দিয়ে বাধ যাওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

উলেখ্য: বাধঁ নির্মানের বিল স্থগিত চেয়ে ও বাধ নির্মানে অনিয়ম তদন্ত করতে (৫ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার গাইবান্ধ জেলা প্রশাসক ও এলজিউডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক সোনাইডাঙ্গা গ্রামের ভুক্তভুগী কৃষক ময়েন উদ্দিন। এছাড়াও ৭ আগষ্ট শনিবার গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাবে ও ১০ আগষ্ট গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন মহলের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: