বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
নোটিশ

জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ : সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকার জন্য গাইবান্ধা  জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা , উপজেলা, থানা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান/এলাকায় প্রনিতিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবিসহ সরাসরি অথবা ডাকযোগে সম্পাদক বরাবর আবেদন করুন

প্রকাশক সম্পাদক, সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে , গোডাউন রোড, কাঠপট্টী, গাইবান্ধা। ফোন: : ০১৭১৫-৪৬৪৭৪৪, ০১৭১৩-৫৪৮৮৯৮,

আর সাহিত্য সম্মেলন করা হল না সাবু ভাই!

রজতকান্তি বর্মন / ৭০ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:০৮ অপরাহ্ন

সাবু ভাই যখন অসুস্থ অবস্থায় বগুড়ায় টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তখন আমিও খুব অসুস্থ, বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। ফোনে কথা হত, ‘রজত শরীরের যত্ন নিও, অবহেলা করিও না। ভালো থেকো আর আমার জন্য দোয়া করিও।’ রোগশয্যায় শুয়ে একজন অনুজ সহকর্মী জন্য অগ্রজের যে উদ্বেগ, তা হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মত। কতটা মানবিক ছিলেন তিনি।
আমার দেখা তিনি একজন ‘বড়মাপের মানুষ’।সাবু ভাইকে আমি শেষ দেখাটাও দেখতে পারিনি। এ কষ্টটা আমাকে আমৃত্যু তাড়িয়ে বেড়াবে। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমি মুষড়ে পড়ি, আরও অসুস্থ হয়ে পড়ি। ঘোরের মধ্যেই কুদ্দুস ভাই(কুদ্দুস আলম) ও রোমেলের(কায়সার রহমান রোমেল) কাছ থেকে তাঁর দাফনের খবরাখবর নিচ্ছিলাম।সাবু ভাই রগচটা মানুষ ছিলেন, অল্পতেই রেগে যেতেন। কিন্তু তাঁর মনটা ছিল কাদামাটির মত, তাঁর ভালোবাসার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। তিনি কাউকে যেমন শাসন করতেন, তেমনি আদরও করতেন। যেকোনো নির্জীব পরিবেশও তাঁর উপস্থিতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠত। প্রভাব বিস্তারে তিনি ছিলেন ঈর্ষণীয় ক্ষমতাবান। প্রতিকুল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁর ক্ষমতা ছিল শৈল্পিক।তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি, পরিবারের সাথেও। সাহিত্য করতে গিয়ে ১৯৮৬ সালের দিকে তাঁর সাথে পরিচয়, তারপর ঘনিষ্ঠতা। সেই ঘনিষ্ঠতা অল্পদিনেই পারিবারিক পর্যায়েও বিস্তৃত হয়। তিনি ছড়া লিখতেন, কবিতা লিখতেন, ছোটগল্প লিখতেন, বিভিন্ন দিবসভিত্তিক প্রবন্ধ লিখতেন। আমি সেই সময় বিভিন্ন নামে সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করতাম। প্রকাশনার ক্ষেত্রে ‘জুতা সেলাই থেকে চণ্ডিপাঠ’ সবই করতে হত আমাকে। মাঝেমাঝে আমাকে সঙ্গ দিতেন উত্তম সরকার, সাধন চন্দ্র বর্মণ, পিটু রশিদ, ফিরোজ রতন। লেখার জন্য আমরা তাঁর বাসায় যেতাম। তবে বলাই বাহুল্য, শুধু লেখার জন্য নয়, তাঁর বাসায় ছিল আমার অবাধ যাতায়াত ।আবু জাফর সাবু সমাজ, রাজনীতি, প্রতিদিনের ঘটনা, নাগরিক সমস্যা নিয়ে ছড়া লিখেছেন। তিনি স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে তীর্যক ছড়ার মাধ্যমে ‘সংবাদ কটাক্ষ’ লিখতেন যা ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তিনি ছিলেন নিরলস পরিশ্রমী। সবকিছুর উপরে পরিবারের প্রতি তাঁর মত দায়িত্বশীল মানুষ আমি খুব কম দেখেছি।
সেই সময় গাইবান্ধায় যারা লেখালেখি করতেন, তারা প্রায় সকলে ভালো লিখতেন। তো সাহিত্য পত্রিকার জন্য কবিতা, ছড়া তো অনেক পাওয়া যায়, কিন্তু গদ্য? প্রবন্ধ বা ছোটগল্পের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একমাত্র ভরসা। লেখা দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনো কার্পণ্য করতেন না। অন্যদের মতো নয়, যেদিন লেখা দিতে চাইতেন, সেইদিনই দিতেন। লেখার জন্য তাঁর পেছনে কখনও ঘুরতে হয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না।সম্ভবত ১৯৯৪ সালে আমরা প্রথম রংপুর রেডিওতে কবিতা পড়তে চাই সাবু ভাইয়ের নেতৃত্বে। তখন রংপুর রেডিওর অনুষ্ঠান সংগঠক ছিলেন কবি মহফিল হক। সাবু ভাই-ই তাঁর সাথে আমার পরিচয় করে দেন। মহফিল ভাই অনেক বড়মাপের কবি। তারপর অনেকবার রেডিওতে প্রোগ্রাম করেছি। উদারভাবে সহযোগিতা করেছেন মহফিল ভাই, যার পুরো কৃতিত্ব আবু জাফর সাবুর।গাইবান্ধায় ১৯৮০ সালের পর ১৯৯৭ সালে আমরাই সাহিত্য সম্মেলন করি। সাহিত্য সম্মেলন আয়োজনের জন্য ১৯৯৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসের দিকে নিপনদা( খোন্দকার নিপন) ও আমি অমিতাভদা (অমিতাভ দাশ হিমুন) ও সনজীবনদার(সনজীবন কুমার, বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী) কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাই। তারা আমাদের প্রস্তাবে সায় দিলেন। কিন্তু সাহিত্য সম্মেলন আয়োজনের জন্য একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রয়োজন। কারণ, এত বড় আয়োজনের জন্য তো অর্থ প্রয়োজন! কে আছেন সেই প্রভাবশালী উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব? তখন সাবু ভাইয়ের বিকল্প কেউ ছিলেন না। পরে আমরা চারজন মিলে সাবু ভাইয়ের কাছে যাই। তিনি সানন্দে আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। আমরা এই পাঁচজনই একটি কমিটির কাঠামো দাঁড় করাই। সেই কমিটিতে অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান ছিলেন আহ্বায়ক, আবু জাফর সাবু সদস্য সচিব আর অমিতাভ দাশ হিমুন যুগ্ম সদস্য সচিব। কমিটিতে সব বয়সের লেখক, কবি ও কবিতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই কমিটির আয়োজনে ১৯৯৭ সালের ৯ ও ১০ জানুয়ারি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাহিত্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য কবি শামসুর রাহমান। ঢাকা থেকে অতিথিদের নিয়ে আসা ও তাঁদের থাকা-খাওয়া নিয়ে রয়েছে আলাদা এক ইতিহাস। এরপর দীর্ঘ বছর চলে গেছে, গাইবান্ধায় আর সাহিত্য সম্মেলন হয়নি। কেউ উদ্যোগও নেননি।
বছর দুয়েক আগে শামীম ভাই(শামীম মাহবুব) সাহিত্য সম্মেলনের চিন্তা করছিলেন। আমি একদিন কথায় কথায় সাবু ভাইকে বলেছিলাম, ভাই আর একবার সাহিত্য সম্মেলন বা কবি সম্মেলন করা যায় না? তিনি প্রথম প্রথম পাত্তা দিতেন না, এমনকি কথাটি গায়েই মাখতেন না। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি নিজেই বলেন, সাহিত্য সম্মেলন করতে অনেক খরচ আর আগের মত আন্তরিক লোকেরও অভাব। তবুও আর একবার সাহিত্য সম্মেলন করা উচিত রজত। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সেই আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। তারপর তো সাবু ভাই চলেই গেলেন।
আবু জাফর সাবু সম্পাদিত বিখ্যাত ছড়া পত্রিকা ‘ইষ্টিকুটুম’। ১৯৭৯ সালের মে মাস থেকে ১৯৮০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশ হয়েছিল পত্রিকাটি। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে ‘বুনো হাঁস ও নেংটি ইঁদুর’ নামে একটি শিশু কাব্য নাটিকা প্রকাশিত হয় যা দেশের শিশু সাহিত্যে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে। এছাড়াও তাঁর ‘ছন্দের আল্পনা’, ‘ঘুম ভাঙানিয়া ছড়া’, ‘স্বপ্নীলের জন্য ছড়া’, ভ্রমণ কাহিনি ‘শান্তি নিকেতন থেকে তাজমহল’, শিশু-কিশোর ছোট গল্প গ্রন্থ ‘মামা কাহিনী ও অন্যান্য গল্প’ এবং কবিতার বই ‘পড়ন্ত বিকেলের রোদ’ প্রকাশিত হয়েছে। ( সংক্ষেপিত)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: