রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
নোটিশ

জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ : সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকার জন্য গাইবান্ধা  জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা , উপজেলা, থানা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান/এলাকায় প্রনিতিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবিসহ সরাসরি অথবা ডাকযোগে সম্পাদক বরাবর আবেদন করুন

প্রকাশক সম্পাদক, সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে , গোডাউন রোড, কাঠপট্টী, গাইবান্ধা। ফোন: : ০১৭১৫-৪৬৪৭৪৪, ০১৭১৩-৫৪৮৮৯৮,

ঋণ খেলাপি হয়েও সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক শেখ ডানিয়াল!

অনলাইন ডেস্ক / ৫৯ Time View
Update : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। শেখ মোহাম্মদ ডানিয়াল এ বিমা কোম্পানির একজন উদ্যোক্তা পরিচালক। তিনি চলতি বছরের শুরুর দিকে খেলাপি হয়েছেন পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখায়। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মিরেজ এগ্রো কমপ্লেক্সের নামে নেয়া কৃষিঋণ পরিশোধ না করায় খেলাপি হয়ে পড়ে। সুদাসলে এ ঋণ ৩৮ কোটি টাকা হয়েছে। আর এ পাওনা আদায়ে গত ২৯ আগস্ট পদ্মা ব্যাংক চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে।

পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে মিরেজ এগ্রো কমপ্লেক্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কৃষিঋণ নেন শেখ মোহাম্মদ ডানিয়াল। তিনি মিরেজ গ্রুপের একজন পরিচালক। প্রথম দিকে কয়েকটি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করলেও পরে তা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এরপর একবার ঋণটি পুনঃতফসিল করেছিলেন। এরপর আবারও খেলাপি হয়ে পড়েন। আবারও পুনঃতফসিলের আবেদন করলে ব্যাংকে আবেদন গ্রহণ করেনি।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। যদিও এর আগে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর এনআই অ্যাক্ট চেক প্রত্যাখানের জন্য মামলা করা হয়েছিল। আর গত ২৯ আগস্ট খেলাপি ঋণ আদায়ে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে ব্যাংক করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংকটির পাওনা ৩৭ কোটি ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩২ টাকা। এ পাওনা আদায়ে বেশ কয়েকবার তাগাদা দেওয়া হলেও শেখ মোহাম্মদ ডানিয়াল খেলাপি পাওনা পরিশোধে আগ্রহ দেখাননি। এমনকি পাওনা আদায়ে ঋণের বিপরীতে থুলিশী মৌজায় দোতলা ভবনসহ ৩৩ শতাংশ বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলা হলেও আগ্রহী ক্রেতা না থাকায় বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি হয়নি।

জানা যায়, গত ৩০ জুন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় জীবন বিমা খাতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এ বিমা কোম্পানির একজন উদ্যোক্তা পরিচালক হলেন শেখ মোহাম্মদ ডানিয়াল। বিমা খাতের এ কোম্পানিটির ১৮ লাখ শেয়ার হোল্ডিং করেন খেলাপি ব্যবসায়ী ডানিয়াল, যিনি আবার সাধারণ বিমা খাতের আরেক কোম্পানি রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান। শুধু তিনি নন, এ ঋণের জামিনদার হিসেবে আছেন তার স্ত্রী তাসনিয়া কামরুন আনিকা। রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক তিনি। এরই মধ্যে রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের নিয়োগ ও বেতন কমিটির (এনআরসি) চেয়ারম্যান এবং সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এর বন্ধকদাতা হিসেবে আছেন ডানিয়ালের বাবা আবদুল মতিন। তিনি কর্ণফুলী ইপিজেডে অবস্থিত ফাইনেস অ্যাপারেল লিমিটেডের চেয়ারম্যান।

গত মঙ্গলবার বিকালে সুগন্ধা আবাসিকের মিরেজ টাওয়ারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় লন্ড্রিবয় নামে একটি ধোপার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, দ্বিতীয় তলায় ইনটেলিজা নামের একটি সাইনবোর্ড, তৃতীয় তলায় কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, চতুর্থ তলায় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অফিস এবং পঞ্চম তলায় আবাসিক ফ্ল্যাট। এ ভবনের কেয়ারটেকার বলেন, দুই-তিন বছর আগে ডানিয়াল সাহেবের মিরেজ এগ্রো নামে একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন এখানে নেই। এখানে সোনালী লাইফের একটি অফিস আছে। বাকি অফিসগুলো বন্ধ। আর পঞ্চম তলায় ভাড়া দেয়ার জন্য ফ্ল্যাট আছে, ভাড়া হয় না। পুরোনো বাড়ি তো, তাই লোকের আগ্রহ নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, কোম্পানি আইন ১৯৯২ (২০১৮ সালে সংশোধিত) ১৭ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠন কিংবা বিমা কোম্পানির পরিচালক যে ব্যাংকে ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়েছেন, সেই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি পরিচালককে দুই মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিস প্রদান করে। আর এ সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে পরিচালক পদ শূন্য হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের একাধিক আইন কর্মকর্তা বলেন, খেলাপি হলে কোনো বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকা যাবে না। আর এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ। তবে খেলাপি হওয়ার বিষয়ে ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করলে তখন বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে। এমনকি খেলাপি ঋণের জামিনদারও যদি কোনো বিমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হন, তিনিও পরিচালক পদ হারাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আইন অনুসারে কোনো খেলাপি ঋণের গ্রাহক বিমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে থাকতে পারবেন না। হয়তো পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় সিআইবি রেগুলার ছিল। বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে। যদি খেলাপি হন তাহলে পরিচালক পদ ছাড়তে হবে। আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি দেখবে।’

জানতে চাইলে মিরেজ এগ্রো কমপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী এবং রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ডানিয়াল বলেন, ‘আমার সিআইবি তো রেগুলার আছে। আর গত সপ্তাহেও ঋণের কিস্তি দিয়েছি। আসলে আমি রি-শিডিউলের জন্য আবেদন করেছিলাম। এর জন্য ডাউন পেমেন্টও দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাংক রি-শিডিউল না করে ঋণের সঙ্গে সমন্বয় করে। আর বিষয়টা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলাম। হাইকোর্টও আমার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাংক আমাকে খেলাপি দেখিয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে। অথচ খেলাপির বিষয়ে আমাকে ব্যাংক কোনো লিগ্যাল নোটিস দেয়নি। আমি যে খেলাপি, তা আমাকে তো জানানো হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এগ্রো বিজনেস বিভিন্ন কারণে সেøা হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা এটা ক্লোজ করে দেব। তবে আমাদের অন্য বিজনেস ইউনিটগুলো চালু আছে। আমরা আগামী ছয় মাসে ব্যাংক লোন পরিশোধ করে দেব। আর ব্যাংক লোন পরিশোধ করার জন্য আমরা জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু করতে পারিনি। এ কারণে কিছু সময় লেগেছে।’

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমাস ব্যাংক) থেকে শেখ মোহাম্মদ ডানিয়াল ২০১৫ সালের কৃষি খাতে ঋণ সুবিধা নেন। যদিও তখনকার একজন পরিচালক এ ঋণের ব্যাপারের আত্মীয়তার কারণে সহযোগিতা করেছিলেন। এখন তিনি পরিচালক হিসেবে নেই। আর ডানিয়ালও ব্যাংকের পাওনা নিয়মিতভাবে পরিশোধ করেনি। আমরা পাওনা আদায়ে একাধিকবার তাগাদা দিলেও তিনি পাওনা পরিশোধে উদ্যোগ নেননি। এমনকি তার ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় চেক প্রত্যাখ্যান করাও হয়েছিল। এ কারণে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর চেক প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। পরে তিনি সিআইবি হাইকোর্ট থেকে স্টে-অর্ডার নিয়েছিলেন। তবে স্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ২৯ আগস্ট খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছি। আসলে তিনি ইচ্ছাকৃত খেলাপি। এমনকি ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: