বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষ সভাপতির গুদাম ঘর

স্টাফ রিপোর্টার / ১১০ Time View
Update : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৪:৩১ অপরাহ্ন

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষ যেন পরিত্যক্ত গুদাম ঘর। দেখে কোন ভাই বোঝার উপায় নেই এটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম । বাপ-দাদার জমিতে স্কুল প্রতিষ্টা করা হয়েছে তাই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এই স্কুলের ক্লাস রুমগুলো কখনো সরিষার গুদাম, কখনো পাটের গুদাম, কখনো বা পেয়াজের গুদামসহ ব্যাক্তিগত হিসাবে ব্যবহার করে বলে স্থানীয়দের দাবী । সভাপতিকে ক্লাস রুমের চাবি ফেরত দিয়ে রুমটি স্কুলের কাজে ব্যবহার করতে মৌখিক বলার অপসারণ করতে শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা জানালেন প্রধান শিক্ষক । অভিযোগ স্বীকার করে স্কুল কমিটির সভাপতি জানালের পাট গুলো সরানো হয়েছে রুমের চাবি ফেরত দেয়া হবে। শিক্ষা কর্মকর্তা জানালেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

সরজমিনে দেখা যায়, দুটি রুমে ৫ম ও ৩য় শ্রেণীর ক্লাস চলছে। পাশের একটি শ্রেণী কক্ষ তালাবদ্ধ । পরে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় এই ক্লাস রুমটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে স্কুলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম । চরের বিভিন্ন পন্য কিনে এই রুমে স্টোক স্ট্রোক করে রাখে। দাম বাড়লে বিক্রি করে। তালাবদ্ধ শ্রেনী কক্ষটি স্কুলের দপ্তরীকে রুমটি খুলতে বললে তিনি জানান, এই ক্লাস রুমের চাবি সভাপতির কাছে । সভাপতি বাড়িতে না থাকায় পরে সভাপতির স্ত্রী এসে রুমটি খুলে দেয়। রুমে প্রবেশ করে দেখা যায় এই রুমেটি পরিত্যক্ত গুদাম ঘর। কৃষি কাজে ব্যবহত ইঞ্জিন চালিত শ্যালো মেশিন, প্লাষ্টিক পাইপ ও কিছু কিছু স্থানে পাট পরে আছে । স্কুলটির এই ক্লাস রুম সভাপতি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল মালেক জানান,“এই স্কুলটির সভাপতি মনগড়া ভাবে চলে। প্রতিষ্টার সম্পদ নিজের মনে করে ভোগ করে। ক্লাস রুমগুলো নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। এই সব বিষয়ে বাধা নিষেধ করলে স্কুলের জমি-জমি নিজের বাবার বলে দাপট খাটায়।”

এই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো: আব্দুর রশিদ জানান,“আমরা সভাপতিকে অনেক বাব বলেছি কিন্তু সভাপতি আমারাদের কথা শোনেননি । শিক্ষা অফিসার স্কুল পরিদর্শনে এসে চলতি মাসে দুই দিন রুমটি তালা বন্ধ দেখে এবং রুমটি ছেড়ে দিতে সভাপতি বললেও তিনি শোনেন নি।”

এই বিষয়ে স্কুলটি দপ্তারী সাহাব উদ্দিন জানান, “আমার কি করার আছে । স্কুলের সভাপতি ক্লাস রুমটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে। পেয়াজ ও পাট কিনে রাখে। তার বাপ-দাদার জমিতে স্কুল অধিকার তার বেশী । ওনি করোনা কালীন সময়ে স্কুলটিতে পেয়াজ, সরিষা সহ বিভিন্ন পন্য কমদামে কিনে এই ঘরে রেখে দিয়ে সময় মতো বেশী দামে বিক্রি করে।”

প্রধান শিক্ষক মো: লুৎফর রহমান জানান, ক্লাস রুম থেকে পাট অপসারণ করতে স্কুল কমিটির সভাপতিতে একাধিকবার মৌখিক জানানোর পরেও রুমের চাবি দেয়নি। তাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি । একজন প্রধান শিক্ষক হিসাবে স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে আর কি করার থাকে ।”

রুমটি দখলে রাখার অভিযোগ স্বীকার করে স্কুল কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান,“ক্লাস রুমটি পরিত্যক্ত ছিল। তাই আমার চেনা কিছু ব্যবস্যায়ী এই রুমের দরজা জানালা মেরামত করে পাট রাখে । আমরা পাটগুলো রুম থেকে সরিয়েছি। প্রধান শিক্ষক চাইলে রুমটি দিয়ে দিবো। আমার ব্যবহারিক জিনিস পত্র সরিয়ে নিবো ।”
সাঘাটা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ জানান, এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরে রুমটি খালি করেতে স্কুলের সভাপতিতে বারবার তাদিগ দিয়েছি তিনি রুমটি খালি করেনি । আমরা এই বিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।”

এই বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাতে তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা নিতে বলবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: