fbpx
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গাইবান্ধায় শীতজনিত রোগী বাড়ছে গোবিন্দগঞ্জে অক্টোবরের ভালো চাল আত্মসাত করে জানুয়ারিতে দিলেন পঁচা চাল বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে ৮ বছর ধর্ষণ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩ তম সাদুল্যাপুরের নলডাঙ্গার চেয়ারম্যান প্রার্থীকে আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার গাইবান্ধায় অসহায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ সংসদে বিল: সব জেলা পরিষদে সমান সদস্য থাকছে না, বসানো যাবে প্রশাসক গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সরকারি বই সাড়ে ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি পঞ্চমবার বিয়ের পিঁড়িতে চিত্রনায়িকা পরীমনি মিহির ঘোষসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বাম জোটের বিক্ষোভ

উন্নয়ন অগ্রগতির সম্ভাবনাময় গাইবান্ধা

আনোয়ার হোসেন / ১৪০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫০ অপরাহ্ন

দেশের সবচেয়ে অবহেলিত এবং অনুন্নত এলাকার নাম গাইবান্ধা। দেশ স্বাধীনের পর থেকে গাইবান্ধার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি বরং জেলা শহরটি দিন দিন পকেট শহরে পরিণত হচ্ছে। এমন কোন বাণিজ্যিক কেন্দ্র নেই যার উপর ভিত্তি করে জেলার উন্নয়ন হবে।

৭টি উপজেলা নিয়ে গাইবান্ধা জেলা গঠিত। কিন্তু গাইবান্ধা জেলা শহর এখন দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে তো বটেই, বিভিন্ন উপজেলা থেকেও প্রায় বঞ্চিত। বিশেষ করে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বিচ্ছন্নতা বেশি। যেমন দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার মানুষ রংপুর মুখী, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মানুষ যায় বগুড়া বা ঢাকায়। শুধু সাঘাটা ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চল এবং সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য বা কেনাকাটার জন্য আসেন জেলা শহরে। এর ফলে গাইবান্ধা জেলা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরাজ করছে স্থবিরতা। এ জেলায় নেই কোন কল-কারখানা, আর কল-কারখানা স্থাপনে নেই কোন উদ্যোগ। ফলে বেকার সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

গাইবান্ধাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বালাসী ঘাটে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণ। রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণ হলে গাইবান্ধা জেলা হবে উত্তরাঞ্চলের বন্দরনগরী। উত্তরবঙ্গের প্রায় সকল জেলার বিশেষ করে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার প্রাণকেন্দ্র হত গাইবান্ধা। দীর্ঘদিনের দাবির শেষ পর্যন্ত পরিনতি পেলেও সেখানে রেল ও সড়ক সেতুর পরিবর্তে নৌবন্দর স্থাপন। কাজ বাস্তবায়নে অগ্রগতি পেলেও মাঝ পথে এসে স্থগিত হয়ে যায়।

গাইবান্ধা শহর দিনের অধিকাংশ সময় এখন যানজটের শহর। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে যানবাহনের চাপ যা অসহনীয়। পাশাপাশি বাড়ছে শব্দ দূষণ।

বিশিষ্টজনদের ধারণা, এ অবস্থার নিরসনকল্পে পৌর এলাকার চারদিকে একটি রিং রোড নির্মাণ করা যেতে পারে। রিং রোড হচ্ছে একটি ফুল সার্কেল রোড, যা গাইবান্ধা শহরকে একটি বেষ্টনির মধ্যে চারদিকে ঘিরে রাখবে। এটি নির্মিত হলে শহরের সমস্ত রাস্তা গুলো মিলিত হবে এই রিং রোডের সাথে। ফলে যে কোন সড়ক থেকে অন্য যেকোন সড়কে যানবাহন ডাইভার্ট করা সহজেই সম্ভব হত।

গাইবান্ধা বিসিক শিল্পনগরী স্থাপিত হলেও সেটিও এখনও পূর্ণাঙ্গ শিল্প নগরীতে পরিণত হয়নি। যে কয়টি ছোট ছোট কারখানা স্থাপিত হয়েছে সেগুলোও চলছে ধুকে ধুকে। এর কারণ এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের রয়েছে প্রচন্ড অনিহা। অথচ তারাই গাইবান্ধার বাইরে বড় বড় শহরে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। এছাড়াও জেলার বাইরের কোন ধনাঢ্য ব্যক্তি এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে এগিয়ে আসেনি।

তবে বর্তমানে আশার আলো জাগিয়েছে গাইবান্ধায় ইপিজেড স্থাপন। এটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার বেকার সমস্যার পাশা-পাশি গাইবান্ধা হবে বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আর এর উপর ভিত্তি করে গাইবান্ধা জেলা উন্নয়ন সমৃদ্ধির পথে একধাপ এগিয়ে যাবে। গাইবান্ধা কৃষি ইন্সটিটিউট যখন প্রতিষ্ঠা লাভ করে তখন সারা দেশে এরকম প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ৪ টি। তখনও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এদেশে গড়ে ওঠেনি। সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সমস্ত রকম সুবিধা থাকার কারণে গাইবান্ধা কৃষি ইনস্টিটিউটকে নিয়েই এ রকম একটি পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু তার বাস্তব রূপ পরিলক্ষিত হয়নি। গাইবান্ধা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে এসে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হত। পাশা-পাশি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হত। এক কথায় গাইবান্ধা জেলা হত উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ।

বিশিষ্টজনদের মন্তব্য, সমস্যা সমাধান এবং জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচারের পাশাপাশি প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: