fbpx
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গাইবান্ধায় শীতজনিত রোগী বাড়ছে গোবিন্দগঞ্জে অক্টোবরের ভালো চাল আত্মসাত করে জানুয়ারিতে দিলেন পঁচা চাল বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে ৮ বছর ধর্ষণ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩ তম সাদুল্যাপুরের নলডাঙ্গার চেয়ারম্যান প্রার্থীকে আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার গাইবান্ধায় অসহায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ সংসদে বিল: সব জেলা পরিষদে সমান সদস্য থাকছে না, বসানো যাবে প্রশাসক গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সরকারি বই সাড়ে ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি পঞ্চমবার বিয়ের পিঁড়িতে চিত্রনায়িকা পরীমনি মিহির ঘোষসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বাম জোটের বিক্ষোভ

এমপি লিটন হত্যার পাঁচ বছর

রজতকান্তি বর্মন / ৭৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:২০ অপরাহ্ন

প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে তাঁর শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায়, একেকটা দিন ছিল একেক বছর। এখনও সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের দৃশ্য চোখে ভাসে সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতির। তিনি স্বামী হত্যার বিচারের রায় পেয়েছেন। কিন্তু আজও সেই রায় কার্যকর হয়নি। বুক ফাটা কষ্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী এই পৃথিবীতে নিশ্বাস নিতে পারে না। আমি এবং আমার সন্তান সারাক্ষণ এক দম বন্ধকর অবস্থায় থাকি। সুন্দরগঞ্জের মানুষ অসহনীয় পরিবেশের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটা হীরা হারিয়েছে। তাহলে ওই খুনীরা কীভাবে এখনও নিশ্বাস নিচ্ছে?’ তিনি আশা করেন, দ্রুত এই রায় কার্যকর হলে অসহনীয় পরিবেশ থেকে তাদের মুক্তি মিলবে।

ঘাতকদের হাতে স্বামী মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হওয়ার অপরিমেয় শোক নিয়েও সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি সবকিছু সামলিয়েছেন, এমনকি দলও সামলাচ্ছেন। যেখানে সুন্দরগঞ্জ সাতক্ষীরাকে আলাদা করে দেখা যায় না, সেখানে সেই পরিস্থিতিতে তিনি নানান চাপেও দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় থেকে দলীয় নেতাকর্মী তথা জনগণের পাশে থাকছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মানুষের প্রিয় নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এমপি হত্যাকান্ডের পঞ্চম বার্ষিকী আগামীকাল ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার। ঘাতকরা তাঁকে শারীরিকভাবে হত্যা করতে পারলেও মানুষের হৃদয় থেকে তাঁকে হত্যা করতে পারেনি। মানুষের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন এমপি লিটন। ভয়ঙ্কর সেই ঘাতক কাদের খান ও তার নির্মম সহযোগীরা মৃত্যুদন্ডের রায় মাথায় নিয়ে এখন কারাগারে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর ক্ষণ গুণছে। স্বামীর খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন এমপি লিটনের শোকার্ত বিধবা পত্নী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি ও তার একমাত্র সন্তান।

সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি স্বামী হত্যার গভীর শোক বুকে ধারণ করে শোককে শক্তিতে রুপান্তর করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ জনগণের ভালোবাসায় এলাকার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। তখন থেকেই ছিলেন মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি এমপি লিটনের শুধু সহধর্মিণীই নন, তাঁর আদর্শ সঙ্গী ও সহযোদ্ধাও বটে। তাঁকে এমপি লিটনের স্থলাভিষিক্ত করার দাবি এলাকাবাসীর।

কর্নেল (অব.) ডা. কাদের খান ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে লাঙল প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি প্রথমে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর দলের ভাইস চেয়ারম্যানের পদ লাভ করেন। আব্দুল কাদের খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নিজস্ব বলয় গড়ে তুলে তাদের দিয়ে টিআর কাবিখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করান। এরফলে তার সাথে জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি হয়ে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেন। এমনকি তিনি গরিব লোকদের কাছ থেকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে কৌশলে জমি হাতিয়ে নিয়ে পুকুর খনন করেন। নানান দুর্নীতির কারণে এলাকায় তিনি কোনঠাসা হতে থাকেন।

তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ২০১২ সালে কাদের খানের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীর্তি দমন কমিশনে অভিযোগ দেন। তদন্তে পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তিনি রাজনীতিতে যেমন কোনঠাসা হতে থাকেন, তেমনি জনসম্পৃক্ততা কমে যাওয়ায় তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের কাছে পরাজিত হন। এরপর থেকে তিনি এলাকায় আসা প্রায় ছেড়ে দেন।

জাতীয় পার্টির এই সাবেক এমপি আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার স্বপ্নে এতটাই বিভোর ছিলেন যে, তিনি এমপি লিটনকে পথের কাঁটা ভেবে তাঁকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেয়ার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে কাদের খানের লালিত-পালিত খুনীরা। কিন্তু প্রথমে সন্দেহের দৃষ্টি থেকে দূরত্বেই ছিল ঘাতক চক্র কাদের খান ও তার সহযোগীরা। এমপি লিটন হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে নামে গোয়েন্দারা। সন্দেহভাজন অনেকে গ্রেফতার হন। একপর্যায়ে উপজেলার ধোপাডাঙ্গায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করার পর এমপি লিটন হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন হতে থাকে। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি বগুড়ার বাসা থেকে কাদের খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তদন্ত শেষে কাদের খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরমধ্যে সুবল কসাই নামের এক আসামির কারাগারেই মৃত্যু হয়।

জেলা জজ আদালত ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর এমপি লিটন হত্যাকাÐে জড়িত সাত আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। দন্ডিতরা হলো- আব্দুল কাদের খান ও তার পিএস শামছুজ্জোহা এবং হান্নান, মেহেদী, শাহীন, রানা ও চন্দন কুমার রায়। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি চন্দন কুমার রায় ফেরার রয়েছে।

এমপি লিটন হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা দায়ের করে। একটি অস্ত্র মামলা ও অপরটি হত্যা মামলা। অস্ত্র মামলার রায়েও একমাত্র আসামি আব্দুল কাদের খানের ১২ বছর ও অবৈধ বিষ্ফোরক মামলায় আমৃত্যু কারাদন্ড হয়।

উল্লেখ্য, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ১৯৯৮ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মনোনীত হন। জামায়াত অধ্যুষিত সুন্দরগঞ্জে তিনি ২০০০ সালে কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আজমের জনসভা পন্ড করে দেন ও তার আগমন প্রতিহত করেন। তিনি ২০০৩ সালে ব্যালটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।

এদিকে, সুন্দরগঞ্জের মানুষ মনে করেন, নিহত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের যোগ্য সহধর্মিণী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব প্রদান ও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনের সুযোগ দিলে এমপি লিটনের প্রতি সম্মান জানানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: